ক্রীড়া ডেস্ক: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে মনে করেন রেফারিং বিশেষজ্ঞ ও সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি গ্রাহাম স্কট।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) রাতে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বিশ্লেষণমূলক সাক্ষাৎকারে তিনি মোহাম্মদ সালাহর বিষয়টিও তুলে ধরেন।
গ্রাহাম স্কট বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে ফাউলের অভিযোগে মিসরের পেনাল্টির দাবিটি খারিজ করার সিদ্ধান্তও সঠিক।’
তার মতে, সালাহর বুটে সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল ঠিকই, তবে সেটি ফাউল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ছিল না।
জিকোর বাতিল হওয়া গোলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৬৭তম মিনিটের গোলের আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে আতিয়ার যে সংঘর্ষ হয়েছিল, সেটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ। এটিকে ফাউল হিসেবে ধরা উচিত হয়নি।’
গ্রাহাম স্কট বলেন, ‘জিকোর গোলের আগের ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটেছিল। এরপর আর্জেন্টিনার রক্ষণ গুছিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল। তাই ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে গোল বাতিল হওয়ায় মিসরের ক্ষুব্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, রিপ্লেতে আতিয়ার পায়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের পায়ের সামান্য সংস্পর্শ এবং ক্ষণিকের জন্য জার্সি ধরে রাখার ঘটনা দেখা গেলেও, সেটি ভিএআরের হস্তক্ষেপের মতো কোনো স্পষ্ট ফাউল ছিল না।
গ্রাহাম স্কটের ভাষায়, এটি ছিল ভিএআরের একটি বিস্ময়কর হস্তক্ষেপ এবং ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ সংশোধনের সীমা অতিক্রম করার উদাহরণ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়া ভিএআর পর্যালোচনা করে। তবে কোনো গোল বাতিল করতে হলে সেখানে স্পষ্ট ফাউল থাকতে হয়, যা এই ঘটনায় ছিল না।
তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ও গোলের মধ্যে সময় ও দূরত্ব যত বেশি থাকে, সেই চ্যালেঞ্জকে ফাউল হিসেবে গণ্য করার মানদণ্ডও তত কঠোর হওয়া উচিত। কিন্তু এই ঘটনায় এমন কোনো অপরাধই ছিল না, যাতে ভিএআরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।’
এদিন আর্জেন্টিনা দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ম্যাচের পর মিসরের কোচ এবং খেলোয়াড়রা রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন।




