বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, সকালে মিলল লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্ধ কারখানার ভেতর থেকে মোহাম্মদ সাইমন (২৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাড়বকুন্ড এলাকার বন্ধ চিটাগাং কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।

- Advertisement -

নিহত মোহাম্মদ সাইমন বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের ভাইয়েরখীল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ লোকমানের ছেলে।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে কারখানার ভেতরে বৈদ্যুতিক তারে জড়ানো অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বন্ধ কারখানার ভেতরে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে সাইমনের মৃত্যু হতে পারে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে বন্ধুরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

নিহতের স্ত্রী শাহেদা আক্তার জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাইমনের বন্ধু মোস্তফার ব্যবহৃত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে সাইমনকে বাইরে যেতে বলা হয়। তিনি স্বামীকে যেতে নিষেধ করলেও সিগারেট খাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান সাইমন।

শাহেদার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একই নম্বর থেকে আবার ফোন করে সাইমন তাকে জানান, তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত ওই নম্বর থেকেই যোগাযোগ করা হবে। তখন যেন দরজা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর একাধিকবার ফোন করেও আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে তার নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহেদা।

স্বামীর মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শাহেদার প্রশ্ন, বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে সাইমন বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেলে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও প্রধান উৎস থেকে দূরে তার মরদেহ কীভাবে পাওয়া গেল? তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে ভালোবেসে সাইমনকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বামীর বাড়িতে তুলে নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, সাইমনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, বন্ধ চিটাগাং কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের ওপর ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।

ওসি আরও জানান, এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া এবং তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে সীতাকুণ্ডে টানা তিন দিনে সাইমনসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ