আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দাপট দেখাল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেট শিকারের সঙ্গে ইবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ে ২৪০ রানেই গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সেই লিডকে পুঁজি করে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছে বাংলাদেশ।
রোববার ম্যাচের তৃতীয় দিনে ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে মাঠে নামে আফগানিস্তান। আগের দিনের অবস্থান থেকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল সফরকারীরা। তবে দিনের শুরুতে নতুন বল হাতে পেয়ে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেন।
দিনের তৃতীয় ওভারেই ইবাদত হোসেনের ইনসুইঙ্গারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইকরাম। এরপর আফগান ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র তিন বলে তিন উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন হাসান। নিচু হয়ে ভেতরে ঢোকা বল সামলাতে পারেননি এই ব্যাটার। পরের বলে নতুন ব্যাটার কায়েস স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার চেষ্টা করলে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের দিকে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন।
ওভারের পঞ্চম বলে জিয়া-উর-রেহমানকে এলবিডব্লিউ করেন হাসান। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও বাংলাদেশের রিভিউ সফল হয়। বল স্টাম্পে আঘাত করত বলে নিশ্চিত হওয়া যায় প্রযুক্তির সহায়তায়। পরপর তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন এই ডানহাতি পেসার। টেস্ট ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক এবং চলতি বছরের প্রথম।
আফগানিস্তানের একপ্রান্তে যখন নিয়মিত উইকেট পড়ছিল, তখন অন্যপ্রান্তে দৃঢ়তা দেখান অধিনায়ক রহমত শাহ। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও নিজের উইকেট আগলে রেখে তুলে নেন সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মালিকের ৬২ রানের ইনিংস আফগানিস্তানের সংগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের সামনে আর দাঁড়াতে পারেনি আফগানিস্তান। ইনিংসের ৮৭তম ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্থ ফাইফার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হাসান মাহমুদ। এর আগে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তাসকিন আহমেদ এই কীর্তি গড়েছিলেন।
অন্যদিকে ইবাদত হোসেনও ছিলেন সমান কার্যকর। ৫৬ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ধস ত্বরান্বিত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে থামে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ৩৪৬ রানে। দলের হয়ে তানজিদ করেন ৮৩ এবং সাদমান করেন ৬৭ রান। আফগানিস্তানের হয়ে সেলিম ৮২ রানে ৪টি এবং ইয়ামিন ৭৯ রানে ৩টি উইকেট নেন।
সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নিয়ে এখন চালকের আসনে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরিই হবে শান্তর দলের লক্ষ্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৪৬ রান। তানজিদ ৮৩, সাদমান ৬৭। সেলিম ৪/৮২, ইয়ামিন ৩/৭৯।
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৪০ রান। রহমত শাহ ১০৫*, মালিক ৬২। হাসান মাহমুদ ৫/৫৫, ইবাদত হোসেন ৪/৫৬।

