পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১৭ দেশের মুদ্রা, মিলল ২৪ কেজি স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
spot_img

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়েছে ১৭ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। একই সঙ্গে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রৌপ্যালঙ্কার। সব মিলিয়ে স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের ওজন প্রায় ২৪ কেজি।

- Advertisement -

সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়। সকাল পৌনে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণ শেষ হলেও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা ও হিসাবের কাজ শেষ হয় রাত ১০টায়।

বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি ও মালয়েশিয়ান রিংগিত। গণনা অনুযায়ী, সৌদি রিয়াল রয়েছে ৫৭ হাজার ৪১৪টি, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭টি এবং মালয়েশিয়ান রিংগিত ২৯ হাজার ৬৬২টি। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ১৪ হাজার ২৪০টি, মার্কিন ডলার ৮ হাজার ৫৭টি, কাতারি রিয়াল ৭ হাজার ৯৭৩টি এবং ইউরো ৫ হাজার ২৪৫টি পাওয়া গেছে।

অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৭১৮টি সিঙ্গাপুর ডলার, ১ হাজার ২২০টি ব্রিটিশ পাউন্ড, ৯০০টি মালদ্বীপের রুফিয়া, ৮৮৮টি ওমানি রিয়াল, ৭৬৭টি কুয়েতি দিনার, ৫৫৫টি অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ৩৩৩টি বাহরাইনি দিনার, ৩০৫টি চীনা ইউয়ান এবং ২৫টি কানাডিয়ান ডলার। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি—এমন ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা অংশ নেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণ এবং পরিমাপের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি জানান, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বাজারমূল্য নির্ধারণের পর নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। এতে আয় হয় ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা। একই সময়ে দানসিন্দুকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে আরও ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এরপর দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণের কার্যক্রম চলছিল।

এদিকে, পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান জমা পড়েছে।

সর্বশেষ