আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনা এবং বাজারে জ্বালানির প্রাপ্যতা বাড়ার প্রত্যাশায় মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৩০ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০৫ ডলার ৩৫ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ২৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়ায়।
এর আগের কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ ডলার করে বেড়েছিল। ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার বাজারে দামের চিত্র পাল্টে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি রুশ জ্বালানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রবেশ করলে সরবরাহের চাপ কমতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে থাকা কিছু উদ্বেগও কমে আসতে পারে।
তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার হামলার খবর এসেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুই দলের কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আইন এই উদ্যোগের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তেলের বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সপ্তাহান্তে ইরান-সমর্থিত হুথিদের রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আসার সম্ভাবনা তেলের দামে সাময়িক স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও নৌপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, একদিকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমাচ্ছে, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দাম আবারও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ধরে রেখেছে।
সূত্র: রয়টার্স ও শাফাক নিউজ

