নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ১১

অতিরিক্ত যাত্রী ও বেপরোয়া গতির অভিযোগ, আহত অন্তত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নয়জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে সোহাগ হোসেন (৩০) নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত অন্তত ৩০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

বাসে অতিরিক্ত যাত্রীর অভিযোগ
দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, তিনি মাদারীপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য সোমবার রাত ৯টার দিকে বাসে ওঠেন। তাঁর আসন ছিল বাসের পেছনের দিকে।

আব্দুস সালামের অভিযোগ, বাসটিতে আসন পূর্ণ থাকার পরও অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়েছিল। অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকায় বাসের ভেতরে চলাচলের জায়গাও ছিল না। তাঁর ভাষ্য, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক মাঝেমধ্যে জোরে ব্রেক করছিলেন। এতে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়ছিলেন।

তদন্তের উদ্যোগ
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন এবং নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন উপপরিচালক আক্তার হামিদ খান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সেখান থেকে নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। পরিদর্শনের পর তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসের অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও গতির বিষয়ে যাত্রীর অভিযোগ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

সর্বশেষ