সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে চাইলে আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে মামলা দেওয়া যেতে পারে। এমন মামলা হলে তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাবেন বলেও মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে প্রচলিত রাজনৈতিক পদ্ধতির সমালোচনা করে বড় মাদক কারবারি ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ভিন্ন কৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। পোস্টে তিনি মাদকবিরোধী অভিযান ও এর প্রতিকার নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেওয়ায় নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করেন।
ইশরাকের ভাষ্য, নাহিদ ইসলাম তাঁর সম্পর্কে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মাদকের বিস্তার ও তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে কথা না বলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা থাকলেও এ ধরনের অবস্থানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, ‘আগে মাদকের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করলে ভালো হতো না? তারপরে আমাকে ফাঁসিতে ঝোলাতেন।’ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তাঁদের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পাওয়ার আশা পূরণ হচ্ছে না।
মাদকবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
পোস্টে ইশরাক দাবি করেন, মাদক নির্মূলের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একজন তরুণ তাঁকে ফোন করেছিলেন। ওই তরুণ মাদককে সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে অভিযানে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলেও জানান ইশরাক।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলের উদ্যোগ নিতে গিয়ে আইনপ্রণেতা হিসেবে, এমনকি পুলিশের সহায়তায় পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধ পাওয়া গেলে মামলা করা হোক। তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে প্রস্তুত।
বড় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
ইশরাক হোসেন প্রচলিত রাজনৈতিক পদ্ধতিতে মাদক সমস্যার সমাধান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব হবে না। এ জন্য ভিন্ন কৌশলে মাদকবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে বড় মাদক কারবারি ও বিক্রেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর, তেমন মুগুর। শিগগিরই আসিতেছে। বড় ডিলার ও বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’
তবে কী ধরনের বিকল্প কৌশলে মাদকবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ইশরাকের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম, আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে তাঁর অবস্থান সামনে এসেছে। অন্যদিকে, নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও এ বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা থেকে দুই নেতার অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।

