মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের মামলায় মো. রাজ্জাক প্রকাশ চিকনা রাজুকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের অভিযোগ, দুই কোটি টাকা এককালীন চাঁদা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে তা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার টেকবাজার এলাকা থেকে রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গণসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার রাজ্জাক ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ফরাজী বাড়ির আলমগীর ফরাজীর ছেলে। তিনি চান্দগাঁও থানার টেকবাজার এলাকার পুলসংলগ্ন রিয়াদ কলোনিতে বসবাস করতেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মানুন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলার ঘটনায় রাজ্জাকের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই দিন পর, ১৩ জুলাই, প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নগরের চকবাজার থানার ১২১ মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় তারা অফিসের কাঁচের দরজা, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হামলার সময় রাজ্জাকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তাকে প্রথমে কার্যালয়ে প্রবেশ করে কাঁচের দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে দেখা যায়। পরে সহযোগীদের নিয়ে অফিসের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় ১৩ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫, ৩৮০, ১০৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের অভিযোগ, চাঁদা দাবির ফোনালাপে ডেভিড ইমন তাকে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে নির্ধারিত অর্থ দিতে হবে বলে হুমকি দেন। ব্যবসা পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার কথাও বলা হয়। এ ছাড়া নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনারকে ছবি দেখিয়ে তাকে চিনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন আদিল। স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানোর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেও তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিতেন। গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে মোবারককে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।
এর আগে এ দলের নেতৃত্বে থাকা সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন কারাগারে থাকায় বর্তমানে মোহাম্মদ রায়হান দলটির কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে পুলিশের দাবি। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

