ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে এক নারীকে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে শুকনো লাল মরিচের গুঁড়া মাখানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় মাকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর ছেলেও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার করোতিপাড়া গ্রামে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিবরণ জানা যায়। ঘটনার কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর স্বামী পেশায় ইজিবাইকচালক এবং ছেলে পাশের একটি বাজারে চুল কাটার কাজ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর স্বামী বাড়ির বাইরে ছিলেন। তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় পাশের নসায়নপুর গ্রামের রসিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁকে সতর্ক করে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ভালো হয়ে যাও, না হলে বিপদে পড়বে।’
ওই নারী অভিযোগটি অস্বীকার করলে আরও চারজন বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে তাঁর দাবি। তাঁদের মধ্যে একজন আনোয়ারের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাঁর চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, একপর্যায়ে আনোয়ারের স্ত্রী তাঁর ব্যাগ থেকে কাঁচি বের করেন। অন্যরা তাঁকে ধরে রাখলে ওই নারী তাঁর মাথার চুল কেটে দেন। এরপর তাঁকে মারধর করা হয়। পরে ব্যাগ থেকে বড় একটি প্যাকেট বের করে তাঁর শরীরে শুকনো লাল মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দিয়ে তাঁরা চলে যান।
মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলেও মারধরের শিকার
ভুক্তভোগী নারীর ছেলে জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মায়ের চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন, কয়েকজন তাঁর মায়ের শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছেন। বাধা দিতে গেলে তাঁকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাতে স্বামী বাড়িতে ফেরার পর তাঁকে পুরো ঘটনা জানান ওই নারী। পরে তাঁরা ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িতে ঢুকে একজন নারীকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানোর মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে থাকেন না। তিনি শহরে বসবাস করেন এবং গ্রামেও খুব একটা আসেন না।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রসিদ, আনোয়ার ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, ওই নারী বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

