বিকল্প বিমানে ফেরার সুযোগ থাকলেও সবাইকে নিয়ে ফিরলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

জাপান থেকে দেশে ফেরার পথে উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে চাইলে বিকল্প বিমানে দেশে ফেরার সুযোগ থাকলেও সফরসঙ্গীদের একা রেখে আসতে চাননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ সময় বিমানের যাত্রীদের কাছে গিয়ে তাঁদের আশ্বস্তও করেন প্রধানমন্ত্রী।

- Advertisement -

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি জানিয়ে বলেন, জাপান থেকে ফেরার আগে উড়োজাহাজে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে অন্য বিমানে দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু সফরসঙ্গীদের রেখে তিনি একা ফিরতে রাজি হননি। বরং বিমানের যাত্রীদের কাছে গিয়ে কথা বলেন এবং তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, জাপান থেকে উড্ডয়নের আগে উড়োজাহাজের পর্যবেক্ষণের সময় সামান্য ত্রুটি ধরা পড়ে। তবে এটি গুরুতর কোনো সমস্যা ছিল না। সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত ত্রুটিটি সমাধান করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও যাত্রীদের পাশে দাঁড়ান। বিশেষ করে বিমানে থাকা শিশুদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেন এবং তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। যাত্রীরা যেন স্বস্তিতে দেশে ফিরতে পারেন, সে জন্য তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে সরকারি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি।

সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থার চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ