সাজেকে টানা ৯ দিন অবরোধ, বাঘাইহাটে সেনাপ্রধানের পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক এলাকায় সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনার মধ্যে বাঘাইহাট জোন পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

- Advertisement -

এ সময় প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাসদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

সেনাপ্রধানের বাঘাইহাট জোন পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং এরিয়া কমান্ডারসহ সেনা সদর ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাজেককে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে স্থানীয় আন্দোলনকারীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গত ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা। পাশাপাশি উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ, সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার এবং হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবি রয়েছে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী ও দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রশাসনের আগের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রেখেছিল সংগঠন দুটি। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়।

অবরোধের প্রথম দিন সাজেক ভ্যালিতে প্রায় ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েন। তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ওই দিন সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা পর্যটকদের গাড়িবহর নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাড়িবহরটি সাজেকের উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড দেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেও অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে রূপ নেয়।

সর্বশেষ