হ্যালোইন ঘিরে জার্মানি-ফ্রান্সে বিক্ষোভের শঙ্কা, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে সপ্তাহান্তে নতুন করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইউরোপের দুই দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সে। সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় দুই দেশেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।

- Advertisement -

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার জার্মানির প্রায় ৩০টি শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলোনসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জার্মান কর্তৃপক্ষ কয়েক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে বেশ কিছু অভিজাত গয়না ও পোশাকের দোকান তাদের জানালা ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করেছে।

দেশটিতে ‘জেনজি রেগেল্ট!’ (জেন-জি সামলাবে) নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি, বিদ্যালয়গুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হচ্ছে। এসব বিষয়েই মূলত তাদের ক্ষোভ।

অন্যদিকে ফ্রান্সেও সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের তরুণদের আন্দোলনের পর আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। প্যারিসের ৪০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভের সময় মুখ ঢেকে রাখার মাস্ক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। এর আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নিয়েছিল। গত সপ্তাহেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের ব্যবসায়ীরাও। দেশটির চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যালাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, শনিবারের পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকেরা বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, দোকানিরা চাইছেন, শনিবারের দিনটি যেন দ্রুত পার হয়ে যায়।

তার মতে, হ্যালোইন উপলক্ষে অনেকের মুখোশ পরার প্রবণতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে হ্যালোইন উৎসবের এই সপ্তাহান্তে জার্মানি ও ফ্রান্সে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও সহিংসতা এড়াতে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ