বিশ্বকাপ ফাইনালের হার নিয়ে ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন, যা বললেন মার্তিনেজ

খেলা ডেস্ক:
spot_img

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, কোনো বিশেষ সমঝোতা কিংবা মাঠের বাইরের প্রভাবের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ হেরেছে আর্জেন্টিনা। তবে এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবার এসব গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

- Advertisement -

মার্তিনেজের স্পষ্ট বক্তব্য, অর্থের বিনিময়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল হারার প্রশ্নই আসে না। তার প্রশ্ন, এত বড় মঞ্চে কোন ফুটবলার ইচ্ছা করে নিজের দলকে হারাতে চাইবেন?

সম্প্রতি আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন ও এস্তেবান এদুলের অনুষ্ঠান ‘লস এদুল’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। মার্তিনেজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো শুনলে তার হাসি পায়। পুরো ৫১ দিনের সফরে দলের খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম তিনি নিজের চোখে দেখেছেন।

তার ভাষায়, আরও একদিন বিশ্রামের সুযোগ পেলে দলটি হয়তো ভালো অবস্থায় ফাইনালে নামতে পারত। তবে বিশ্বকাপের ফাইনাল কেউ ইচ্ছা করে হারতে চাইবে, এমন ধারণা সম্পূর্ণ অবাস্তব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সব তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু ছড়িয়ে পড়লেই মানুষ সেটিকে সত্য বলে ধরে নেয়। এসব ষড়যন্ত্রের গল্প কোথা থেকে তৈরি হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারেন না।

এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে একই ধরনের অভিযোগের জবাব দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে তার মা-বাবাও ফোন করে ম্যাচে কী ঘটেছিল, তা জানতে চেয়েছিলেন।

এনজো বলেন, ফাইনালে আসলে অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। সব অভিযোগ মিথ্যা ও মনগড়া। স্পেন তাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং যোগ্য দল হিসেবেই জয় পেয়েছে। তাই প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো উচিত।

আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোও ফাইনাল ঘিরে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছিলেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ একটি মনগড়া কথা ছড়িয়ে দিলেই সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, শারীরিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত অবস্থায় ফাইনালে খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। অ্যাকিলিস টেন্ডনের সমস্যার কারণে নিজেও ঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারেননি।

মার্তিনেজও দলের পরাজয়ের পেছনে শারীরিক ক্লান্তি ও ব্যস্ত সূচির বিষয়টি সামনে এনেছেন। তার অভিযোগ, এবারের বিশ্বকাপে বাণিজ্যিক বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মধ্যে মাত্র তিন দিনের বিরতি থাকায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাননি খেলোয়াড়েরা। এর মধ্যে দীর্ঘ ভ্রমণ ও অনুশীলনের চাপও সামলাতে হয়েছে তাদের।

তবে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্পেনের পারফরম্যান্সকে খাটো করেননি মার্তিনেজ। তার স্বীকারোক্তি, ফাইনালে স্পেন ভালো খেলেই শিরোপা জিতেছে। যদিও ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি।

মার্তিনেজের দাবি, স্পেনের খেলোয়াড়েরাও টাইব্রেকারে যেতে চাইছিলেন না। কারণ, টাইব্রেকারে নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে জেতার তাগিদ ছিল।

এর আগে এনজো ফার্নান্দেজও বলেছিলেন, ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকত। কারণ, তাদের দলে ছিলেন মার্তিনেজের মতো দক্ষ গোলরক্ষক।

ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে মোট ১১টি সেভ করেছিলেন মার্তিনেজ। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি ঠেকাতে পারেননি তিনি। ফলে টাইব্রেকারে নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ ছাড়াই বিশ্বকাপের শিরোপা হারাতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

সর্বশেষ