হুমকির মুখে বাড়ি ছাড়লেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার বোন হেনা বেগম। দাফনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে শেষ পর্যন্ত স্বজনদের নিয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) আতঙ্কের মধ্যে চিতলিয়া গ্রামের বাড়ি ছাড়েন হেনা। এর আগেও তার কয়েকজন নিকটাত্মীয় নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যান। হেনা জানিয়েছেন, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করবেন তিনি।

পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে বসবাস করতেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মানিক পশারী। দীর্ঘ দুই মাস অসুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই মারা যান তিনি।

তার মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়ার পর গার্ড অব অনার দেওয়া এবং দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় কয়েকজন তাকে সেখানে দাফন না করার দাবি জানান। এ সময় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জড়ো হতে দেখা যায়। পরে রাতের বেলা পুলিশি পাহারায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করেন স্বজনরা।

এ ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হেনা বেগমের অভিযোগ, ভাইয়ের দাফনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

মোবাইল ফোনে হেনা বলেন, রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতেও এখন ভয় লাগে। ভাইয়ের দাফনে যারা বাধা দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার পর বিভিন্ন ধরনের হুমকি পাচ্ছি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইব।

এদিকে মানিক পশারীর ভাই পান্না পশারীও হুমকির অভিযোগ করেছেন। তিনি খুলনার বটিয়াঘাটায় বসবাস করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গত ২৪ অক্টোবর পিরোজপুরের পুরান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নিরাপত্তার কারণে শেষ পর্যন্ত পিরোজপুর ছাড়তে হয়েছে।

অন্যদিকে, হেনা বেগমের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী হোসেন। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর কোনো স্বজনকে হুমকি দেওয়া বা হয়রানি করা হয়নি। এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীর দাফনের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে পরিস্থিতির ওপর পুলিশ নজর রাখছে। গ্রাম পুলিশও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তবে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ