ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ২১ বার পেছানো হলো।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ আদায় করে মতিঝিলে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তার অটোরিকশায় হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। এর প্রতিবাদে গত ১৫ জানুয়ারি তিনি আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।
এরপর থেকে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একাধিকবার সময় নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত তা আদালতে জমা পড়েনি। সর্বশেষ মঙ্গলবারও প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আগামী ৭ ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

