যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ যুদ্ধ। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আগের রাতে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভ্যান্সের ভাষ্য, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি বড় অংশ ভোট দিতে এসেছিলেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে সাবেক সমর্থকদের একটি অংশের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে। ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে তাদের অনেকেই এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন।
পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও দলের নেতাদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কেন নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে, তা সবার জানা। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে যুদ্ধের বিষয়টি সামনে রেখেই।
ইরান যুদ্ধের সমর্থকদের উদ্দেশে ভ্যান্স প্রশ্ন তোলেন, এই যুদ্ধের বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোকে যদি কেউ যৌক্তিক মনে করেন, তাহলে তাদের সেই অবস্থানের পক্ষে সৎভাবে যুক্তি তুলে ধরা উচিত।
এদিকে ট্রাম্পের সমর্থকদের ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে পড়ার পেছনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন ভ্যান্স। এগুলো হলো—যুদ্ধের অবসান চাওয়া, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বজায় রাখা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনা।
দলের হতাশ ও ক্ষুব্ধ কর্মীদের প্রতিও বার্তা দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরাজয়ে তাদের ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই ক্ষোভ ও রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নিজেদের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য কাজ করতে হবে।
ভ্যান্সের এই বক্তব্যে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে দলের ভোটারদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

