রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আবেগ, রাগ কিংবা ক্ষোভ নয়, বরং যৌক্তিকতা ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় সংবিধানে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংবিধান দিবস’ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা কখনো রাগ কিংবা ক্ষোভের ওপর নির্ভর করতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন যুক্তি, বিবেচনা ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। দেশের মানুষ সাধারণত কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। যারা অতীতে বাড়াবাড়ি করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে কোন সিদ্ধান্তটি সঠিক, তা নির্ধারণে এ দেশের মানুষ কখনো ভুল করে না।
সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সংবিধানে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, জনগণ তাদের সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তবে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সময়ের চাহিদাকে সামনে রেখে। সংবিধানের মূলনীতি ও ভিত্তি অক্ষুণ্ন রেখেই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে জাহিদ হোসেন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও এ দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে একসঙ্গে বসবাস করছে। সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

