ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। পাশাপাশি তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে তাকে অন্য দেশে বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এই পুরস্কার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ কর্মসূচিতে তথ্যদাতার পরিচয় ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রয়োজনে তথ্য প্রদানকারীকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে আবারও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা ঠেকানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ত। এমনকি দেশটি বিশ্বের মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টেও নিজের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত না রাখলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে থাকত। তার ভাষায়, অনেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে চান না, তবে সবাই সত্যটা জানেন।
তবে একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি এবং অন্যদিকে একই কর্মসূচি সম্পর্কে নতুন করে তথ্য সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রকৃত মূল্যায়ন কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

