ক্রীড়া ডেস্ক: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। ম্যাচ জুড়ে একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিশর কোচ হোসাম হাসান ও বেশ কয়েকজন ফুটবলার, তখন অধিনায়ক মোহামদ সালাহর একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলেছে। যেই মন্তব্যে ফিফার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচে একটি গোল ভিএআর-এর মাধ্যমে বাতিল হয়, শেষ দিকে সালাহকে ঘিরে পেনাল্টির দাবিও ওঠে। কিন্তু রেফারি বা ভিএআর কোনো হস্তক্ষেপ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিশর শিবির। ম্যাচের মাঝে মেজাজ হারান খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফরা। আর ম্যাচের পরও ছবিটা বদলায়নি।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একটি মন্তব্য। যেটি সালাহর বলে দাবি করা হয়। তিনি বলেন, ‘রেফারি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। বললে সমস্যায় পড়ব। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচে সব সিদ্ধান্ত যদি আপনার বিপক্ষে যায়, সেটা সত্যিই হতাশাজনক। ফুটবলের জন্য এটি দুঃখজনক।’
তবে এটি ফেসবুক, রেডিট, এক্স, থ্রেডসে ছড়িয়ে পড়েছিল কোনও ভিডিও পাওয়া যায়নি বা কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তা নিয়ে কোন খবরও প্রকাশ করেনি।
এসব ঘটনাগুলো নিয়ে ইতোমধ্যেই রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা। অভিযোগে তিনি ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। মিশরের দাবি, রেফারি ও তার সহকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
লেতেক্সিয়েকে টুর্নামেন্ট থেকে সরানোর দাবি : মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার অফিশিয়েটিং দলকে আর বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।
কোন দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে মিশর? দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআর পরীক্ষার পর বাতিল করা হয়। রেফারি একটি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে মিশর।
দ্বিতীয় অভিযোগটি আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলকে ঘিরে। মিশরের দাবি, এনজো ফার্নান্দেজের গোলের আগে আর্জেন্টিনার বক্সের ভিতরে মোহামদ সালাহকে ফাউল হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনায় ভিএআর পরীক্ষাই করা হয়নি।
এর আগে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সালাহ বলেন, ‘প্রথমেই বলব, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছা। ম্যাচের ভাগ্য ও ফলাফলও সেটাই ছিল। প্রথমার্ধে আমরা দারুণ খেলেছি। দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটা সময়ও ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।’ তার মতে, নিজেদের কিছু ছোটখাটো ভুল যেমন ছিল, তেমনি ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। তবে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে জড়াতে চাননি তিনি।
‘রেফারিং নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। সবাই দেখেছে কী হয়েছে। আমার আর কিছু বলার নেই,’—সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সালাহ। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইঙ্গিত দেন, অন্তত দুটি সিদ্ধান্ত মিসরের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তার ভাষায়, ‘আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। এরপর একটি পরিষ্কার পেনাল্টিও আমরা পাইনি। সেই ঘটনার পরই তারা পাল্টা আক্রমণে গোল করে। এমন মুহূর্তগুলোই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।’
বিদায়ের হতাশার মাঝেও দলের লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট ছিলেন মিসরের কোচ। সেই বার্তাও তুলে ধরেন অধিনায়ক। ‘কোচ আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন আমরা আরও অনেক দূর যাই। কিন্তু আল্লাহ যা চেয়েছেন, সেটাই হয়েছে। এই বিশ্বকাপে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটাকে ভিত্তি করেই সামনে এগিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যৎ আরও ভালো হবে।’




