spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

রেকর্ড বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, ৪২ বছরের সর্বোচ্চ বর্ষণ

মো.মোক্তার হোসেন বাবু
spot_img

মো.মোক্তার হোসেন বাবু : টানা ভারী বর্ষণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

- Advertisement -

অবিরাম বর্ষণের কারণে নগরীর নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক স্থানে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে আগ্রাবাদ, হালিশহর, চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, একে খান, বন্দর এলাকা ও চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার এই ৪১২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ঘটনা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৪২ বছরের মধ্যে বন্দরনগরীতে এক দিনে এত বেশি বৃষ্টিপাত আর রেকর্ড হয়নি। ফলে এটি একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য ঝুঁকি এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোতে ভ‚মিধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু এখনও সক্রিয় রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে নতুন করে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নগরবাসীর দাবি, প্রতি বছর ভারী বর্ষণে একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল-নালা দখলমুক্ত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ঘটনায় আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বর্ষণের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে নগর পরিকল্পনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ