বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নানা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যেই ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা
দিনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি সফরে মঙ্গলবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও বৈঠক করেন।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ায় তাঁর দিল্লি সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নজর
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও অন্যতম। দুই দেশের সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে ত্রিবেদীর এবারের বৈঠকে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তবে আলোচনায় নির্দিষ্ট কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি বা উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক যোগাযোগ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই দিনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি সফর এবং ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে।
এর আগে গত ১১ আগস্টও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও মোদীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং এরপর সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে চলমান উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে সামনে এনেছে।
সব মিলিয়ে, দিল্লিতে দিনেশ ত্রিবেদীর ধারাবাহিক বৈঠক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ জোরদারের একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনাগুলো আগামী দিনে কী ধরনের বাস্তব উদ্যোগে রূপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

