স্পোর্টস ডেস্ক : একটি যুগের শেষ যেন এক রাতেই এসে হাজির হয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবলে। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচকে ঘিরে যখন আবেগের ঢেউ, ঠিক তখনই জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় বলে দিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ৩৮ বছর বয়সে আলবিসেলেস্তেদের সঙ্গে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানলেন তিনি।
এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবারের মতো অনুশীলন করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ওতামেন্দি। বিদায়ী বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের বিশাল এক অধ্যায় শেষ হচ্ছে।’
মেসির শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করতেই ছিলেন ওতামেন্দি
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলেন ওতামেন্দি। তবে সতীর্থ ও দীর্ঘদিনের অধিনায়ক মেসির জাতীয় দলের শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁকে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে রাখা হয়।
সেই সুযোগেই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ সময়টুকু উপভোগ করছেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। শেষ অনুশীলনের পর তাঁর কথায় ফুটে ওঠে আবেগ ও স্মৃতির ভার।
আর্জেন্টিনার অনুশীলন মাঠের প্রতিটি জায়গার সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে থাকার কথা উল্লেখ করে ওতামেন্দি দেশের হয়ে খেলাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মেসিকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলায় মেসির সঙ্গে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ওতামেন্দি। বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে কোপা আমেরিকার সাফল্য-আর্জেন্টিনার সোনালি সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন দুজনই।
বিদায়বেলায় সেই সম্পর্কের কথাই উঠে এসেছে ওতামেন্দির বার্তায়। মেসিকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার গল্পের অংশ হতে পারা আমার জন্য সম্মানের ছিল, ছোট্ট মানুষ।’
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের রাতেই নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা তাই ওতামেন্দির বিদায়কেও দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
আরও দুই তারকার বিদায়ের গুঞ্জন
ওতামেন্দির বিদায়ের সঙ্গে একই রাতে আর্জেন্টিনা শিবিরে আরও দুটি বিদায়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসোও জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
তবে তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
ডি পল দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মেসির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে আলোচিত। অন্যদিকে লো সেলসোও আলবিসেলেস্তেদের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এক রাতেই বদলে যেতে পারে আর্জেন্টিনার চেহারা
মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ হয়ে থাকছে না। মেসির সম্ভাব্য শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতির পাশাপাশি ওতামেন্দির বিদায়ও ম্যাচটিকে করে তুলেছে আবেগঘন।
যদি ডি পল ও লো সেলসোর বিদায়ও একই রাতে নিশ্চিত হয়, তাহলে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম পরিচিত চার মুখকে একসঙ্গে হারানোর পথে যাবে দলটি।
বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার মতো বড় সাফল্যের সঙ্গে যাদের নাম জড়িয়ে আছে, তাঁদের একসঙ্গে বিদায় আর্জেন্টিনা দলে একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের বার্তাও দিচ্ছে। মেসিদের পরবর্তী অধ্যায়ে নতুন মুখদের জায়গা করে নেওয়ার সময় যে ঘনিয়ে এসেছে, মনুমেন্টালের এই রাত হয়তো তারই সবচেয়ে আবেগঘন সূচনা হয়ে থাকবে।

