সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা নতুন করে তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিকট শব্দ শোনা যায়। হামলার প্রভাবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকটি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিঘ্ন ঘটে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে থাকা কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। কয়েকজন কূটনীতিকও নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা। তবে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিলম্ব হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রাজধানীর কয়েকটি স্কুলও অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
কিছু কূটনীতিকও রিয়াদে নিরাপত্তা সতর্কতার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব সতর্কতা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু বা হামলাকারীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইয়েমেনে আবারও সংঘাতের বিস্তার
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে আবার সংঘাত তীব্র হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছেও তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরব অবস্থান নেওয়ার পর হুতিদের সঙ্গে দেশটির সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলেও বিভিন্ন ফ্রন্টে হুতিরাও অগ্রসর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাইজ শহর ঘিরে হুতিদের অবস্থান শক্ত হওয়ার খবরও এসেছে। ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে তারা ঘিরে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সৌদিকে সহায়তায় তুরস্ক-পাকিস্তান
সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। তুরস্ক প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সৌদি সীমান্তের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ইয়েমেনে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
সিরিয়াও সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছে। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনই বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
বাড়ছে মানবিক সংকট
নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিও আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

