দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে অন্তত এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ নির্মাণ ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশ দেন। বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান।
বৈঠকে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনেও খেলার মাঠ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের বিপরীতে অন্তত একটি করে মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ধাপে ধাপে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭টি জেলায় মাঠ তৈরির জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাঠের আয়তন তিন থেকে আট বিঘার মধ্যে রাখার কথা রয়েছে।
শুধু মাঠ নির্মাণ নয়, এগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বৈঠকে দেশের বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো পুনরায় সচল করা, খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা এবং দখল হয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাবের কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণের পাশাপাশি বছরজুড়ে মাঠে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

