প্রিজন ভ্যানে দুই ঘণ্টা ঘোরানোর অভিযোগ, থানায় বসেই প্রতিবাদ মমতার

পাঁচ তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে অবস্থান, সোমবার বিরোধী জোটের মিছিলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে থানায় ধরনায় বসেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দলটির পাঁচ বিধায়ক। শনিবার বিকেলে দ্বারকা নর্থ থানায় অবস্থান শুরু করে মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশের প্রিজন ভ্যানে ঘোরানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র মিছিলে যোগ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মমতা জানান, বিকেল ৪টার দিকে পাঁচ বিধায়ককে নিয়ে থানায় ধরনা শুরু করেন তিনি। রাতে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে দিল্লিতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিজের ধারণ করা একটি ভিডিওতে মমতা বলেন, তাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের সেখানে যেতে দেয়নি। পরে বাসস্ট্যান্ডের কাছে ব্যানার নিয়ে বসলে পুলিশ ব্যানার সরিয়ে নিতে বলে। পুলিশের নির্দেশ মেনে নেওয়ার পরও তাঁদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়েছে।

মমতার ভাষ্য, তাঁরা কোনো আইন ভাঙেননি। এরপরও তাঁদের সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই থানায় অবস্থান নিয়েছেন তাঁরা। ধরনা চলাকালে পানি পান না করার কথাও জানান তৃণমূল নেত্রী।

মমতার সঙ্গে থাকা পাঁচ বিধায়ক হলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রতিমা মণ্ডল, দোলা সেন, সাকেত ও শ্যামল ইসলাম।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
ঘটনার জন্য পুলিশের ওপর সরাসরি দোষ চাপাতে চান না বলে জানিয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশ অনুসরণ করেই পুলিশ এমন আচরণ করেছে। এ সময় শিক্ষার্থী, কৃষক ও নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি।

শনিবার কলকাতায় ফেরার কথা থাকলেও প্রতিবাদের কারণে দিল্লিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। প্রয়োজনে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
এদিকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলা বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ওই জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে বিক্ষোভকারীদের আগাম সতর্কতামূলকভাবে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া মুম্বাই থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে আসা সিজেপির কর্মী অভিজিৎ দীপকেও বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থানায় অবস্থান-দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার বিরোধী জোটের মিছিলে মমতার অংশ নেওয়ার ঘোষণায় আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ