মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার মামলা: ২৬ আসামির বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

- Advertisement -

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

এ মামলায় পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীসহ ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আটজন কারাগারে রয়েছেন। অন্য ১৮ জন পলাতক।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা পিছিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। ওই দিনও আদেশ না দিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১১ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

কারাগারে আট, পলাতক ১৮ আসামি

কারাগারে থাকা আট আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ইরফানুল হক গাজী।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, উত্তরা বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান।

এ ছাড়া পলাতক তালিকায় রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, ফরিদ আহমেদ, ডিএম শামীম, আনিছুর রহমান নাঈম, আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল এবং তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু।

আন্দোলনকারীদের ওপর গুলির অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিতে সহায়তা করছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এ সময় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন মুগ্ধ। পরে আন্দোলনকারীরা তাঁকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনা ঘিরে আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও উত্তরার আশপাশের এলাকায় আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন। একই দিনের ঘটনায় উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান দিয়ে পিষ্ট করে হত্যার পর তাঁর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ফের গুলি চালানো হয়। এতে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়েসহ চারজন নিহত হন। ওই ঘটনায় রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।

পরিকল্পিত অপরাধের অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের

প্রসিকিউশনের দাবি, ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন ছিল না। বরং এগুলো পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ।

২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের মধ্য দিয়ে এখন মামলাটি বিচারপর্বে প্রবেশ করল। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আসামিদের দায় বিচারিক কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।

সর্বশেষ