সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ও রিয়াদ হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় রিয়াদগামী যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ট্রানজিটের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও বিপাকে পড়েছেন।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব ট্রানজিট ফ্লাইটে যাত্রীদের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে রিয়াদে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু নিজ নিজ দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ঢাকা থেকে যাত্রী পরিবহন করেনি। ফলে যাত্রার সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং অনেক যাত্রীকে বিকল্প ব্যবস্থার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
এর আগে রোববার হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে অন্তত পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবারের হামলায় সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন পাইলট ছিলেন। ওই দিন রিয়াদ বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটে। পাইলটের মৃত্যুর সঙ্গে ওই হামলার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এ সংঘাতের মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দর হুথিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো বিমান সংস্থা উড়োজাহাজ পরিচালনা করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছিল হুথিরা। এরপর শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।
বিমানবন্দর বন্ধ এবং ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রবাসী কর্মী, বিদেশগামী যাত্রী ও ট্রানজিট যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রুটে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধের সর্বশেষ অবস্থা, ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা এবং হামলার ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলোর হালনাগাদ ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

