২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় শাস্তির মুখে পড়েছেন মিসরের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান, উইঙ্গার মোস্তফা জিকো ও দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি হোসাম ও ইব্রাহিমকে তিন ম্যাচ করে এবং জিকোকে পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে। সোমবার মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইএফএ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পেছনে থাকা বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের আইনি দিক পর্যালোচনার পর নিয়ম অনুযায়ী আপিল করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করবে সংস্থাটি।
রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিসর। ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিসরের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। তাঁদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফার এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
ম্যাচে মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল করা হয়। আক্রমণের আগে ফাউল হওয়ায় গোলটি দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়। পরে দুই দল ২-২ গোলে সমতায় থাকা অবস্থায় পেনাল্টির আবেদন জানিয়েও সাড়া পাননি মিসরের খেলোয়াড়েরা। ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর অভিযোগ, রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত মিসরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, ম্যাচের পর এক সাক্ষাৎকারে রেফারিকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে উইঙ্গার জিকোর বিরুদ্ধে।
মিসরের প্রতিনিধিরা প্রতিযোগিতায় বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এসব বক্তব্যের পর গত আগস্টে তিনজনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করে ফিফা।
আফ্রিকা কাপের বাছাইপর্বে বড় ধাক্কা
নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী নভেম্বরে ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান। আগামী বছরের মার্চে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ম্যাচেও দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না তাঁরা।
জিকোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও দীর্ঘ। আগামী জুন পর্যন্ত মিসরের হয়ে খেলতে পারবেন না এই উইঙ্গার। ফলে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে দলের বাকি চার ম্যাচসহ আরও একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁকে পাবে না মিসর।
আপিলের সিদ্ধান্ত ইএফএর হাতে
ফিফার শাস্তির পর এখন নিষেধাজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা মিসরের জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে। বিশেষ করে বাছাইপর্বের একাধিক ম্যাচে কোচ ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় দলটির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবে ইএফএ আপিল করলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

