আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
গাজা উপত্যকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পর এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চেকপোস্টে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে সঙ্গে নিয়ে হেবরন সফরে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত অভিযানে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার এবং কথিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংসের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ওই হামলায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।
নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁকে হেবরনের একটি এলাকা সম্পর্কে বলতে শোনা যায়, ‘প্রথমেই আমরা এই জায়গাটি ধ্বংস করতে পদক্ষেপ নেব, একে পুরোপুরি বদলে দেব।’
তিনি আরও বলেন, শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী যে কঠোর সামরিক অভিযান চালিয়েছে, হেবরনেও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হবে। তাঁর ভাষায়, এসব শিবির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
বাসিন্দাদের সরিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশির পরিকল্পনা
হেবরনে সম্ভাব্য অভিযানের পরিকল্পনা তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, যেসব এলাকা থেকে বন্দুকধারীরা বেরিয়ে এসেছে, সেখানেই অভিযান চালানো হবে। বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া, প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি, অস্ত্র অপসারণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবকাঠামো শনাক্ত করে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পশ্চিম তীরের সড়কের পাশে অনুমতি ছাড়া নির্মিত বাড়িঘর সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এসব স্থাপনা ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
তবে পরিকল্পিত অভিযানে কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন, কোন কোন এলাকা এর আওতায় আসবে কিংবা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় অভিযানের ঘোষণা
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় অভিযান বলে দাবি করেন তিনি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে ঠিক কখন অভিযান শুরু হবে, সেই সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযানটি আসছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব অভিযানে বহু বাসিন্দাকে তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, শিবিরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দমনে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
নির্বাচনের আগে বসতি স্থাপনকারীদের প্রশংসা
সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে হেবরন সফরে গিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রশংসাও করেন নেতানিয়াহু। তাঁদের ইসরায়েলি জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিরোধ রয়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করে। ইসরায়েল অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়ে থাকে।
হেবরনে নতুন সামরিক অভিযানের হুমকি এমন এক সময়ে এল, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার কারণে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। পশ্চিম তীরে নতুন অভিযান শুরু হলে সেখানকার বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতির সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

