রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষার ধাপ শেষ, এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি

বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা সম্পন্ন, বছরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহের আশা

বিশেষ প্রতিবেদক :
spot_img

বিশেষ প্রতিবেদক :রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিটটির বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে। এ ধাপে ধাপে পারমাণবিক চুল্লি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে।

- Advertisement -

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এই কার্যক্রম শুরু করা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের ওপর।

এদিকে, রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফর করেছে রাশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিনিধিদলটি প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা

রাশিয়ার দূতাবাস জানায়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুমোদন পেলেই শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপ

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ের ফিজিক্স টেস্টও সফল হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রুশ প্রতিনিধিদল প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে। এরপর শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম।

প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

বছরের শেষ দিকে গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহের প্রত্যাশা

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, প্রথম ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।

তবে এই সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত নয়। পাওয়ার স্টার্টআপের পর ধারাবাহিক পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ভিত্তিতেই বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নির্ধারিত হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রধান শর্ত।

সর্বশেষ