উপসাগরে মার্কিন সেনাদের আর ফিরতে দেওয়া হবে না: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীকে আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন তেহরানকে হুমকি দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। অন্যদিকে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে।

- Advertisement -

শনিবার (২৪ অক্টোবর) তেহরানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর পুনরায় উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন আবদুল্লাহি। তাঁর বক্তব্য, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যদি ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের সঙ্গে এর অসংগতি রয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

এদিকে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলটির কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে কর্মীর সংখ্যা কমানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য আরও বেশি কর্মকর্তার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুপারিশ করেন। তবে ওই স্মারকলিপিতে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু কিংবা হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবু দেশটিতে ইরানি এজেন্ট থাকতে পারেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ইউরোপে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সতর্কতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

সর্বশেষ