ইসরায়েলে ভোটের দিন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর উচ্ছেদ ও সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলে যখন নির্বাচন চলছিল, ঠিক সেই সময় পশ্চিম তীরে এই বিক্ষোভ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে।

- Advertisement -

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও নীতিগত অবস্থান দেশটির নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে একটি তল্লাশিচৌকিতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর অঞ্চলটিতে অভিযান জোরদার করে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই তল্লাশিচৌকির আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাড়িঘর ভেঙে ফেলার ঘোষণাও দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ডানপন্থী সমর্থকদের সমর্থন ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিম তীরে দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে। তবে ইসরায়েল সরকারের দাবি, সেনাদের ওপর হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে নারী, পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে উচ্ছেদ, অবরোধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। এক প্রবীণ বিক্ষোভকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘সম্মিলিত শাস্তি নয়, অবরোধ নয়, বাস্তুচ্যুতিও নয়।’

এর আগে সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক জানান, ইসরায়েলি অভিযানে তিন হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্মিলিত শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। পুরো এলাকা জনশূন্য করে দেওয়ার হুমকি জাতিগত নিধন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।

তল্লাশিচৌকিতে হামলার পর পশ্চিম তীরের অধিকাংশ ফিলিস্তিনি শহর ও জনপদের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। অবরোধের কারণে চিকিৎসাসেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা নুরা নাসার।

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলে নির্বাচন হলেও ফিলিস্তিনিরা কি মানুষ নন? তাঁদেরও বাইরে যাওয়া ও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।’

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট—দুজনই ইসরায়েলের পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী। ফলে হেবরনের উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল পশ্চিম তীরে তাঁদের দৈনন্দিন পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে না।

নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের আমলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বেড়েছে। জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থানের বিরোধিতা করে। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সর্বশেষ