ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে মিলতে পারে তেলের অস্তিত্ব, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণে থাকবে কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনা দেখছে পেট্রোবাংলা। আগুনের শিখার রং ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এমন ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে গ্যাসের প্রকৃতি, উৎস এবং মজুতের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আগামী ১৫ দিন ঘটনাস্থল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

- Advertisement -

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইনানীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি দল। পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, প্রাথমিক বিশ্লেষণে নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক ও বায়োজেনিক—দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের শিখার রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল কিংবা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে গ্যাস নির্গমনের উৎস হিসেবে ভূগর্ভের অগভীর কোনো গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভারকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বাংলাদেশে দেড় থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে গ্যাসের মজুত পাওয়া যায়। তবে ইনানীর এই গ্যাসের প্রকৃত উৎস ও পরিমাণ জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

পেট্রোবাংলার এ কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১৫ দিন আগুনের শিখার উচ্চতা, গ্যাস নির্গমনের মাত্রা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পর্যবেক্ষণ শেষে যদি আগুনের শিখা আগের মতো থাকে কিংবা আরও উঁচু হয়, তাহলে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এ কাজে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্বে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিটি ব্যবহারের নজির রয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে কিংবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইনানীর আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে। ভূগর্ভের স্তরগুলোর পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পরবর্তী সময়ে বাপেক্সের পক্ষ থেকে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করা হবে। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ওই এলাকায় গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুত পাওয়া গেলে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির গভীর থেকে গ্যাস বেরিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ জন্য সেখানে ১৪৪ ধারাও কার্যকর করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্যাসের উৎস ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সর্বশেষ