যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় দেশটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রোববার (১ নভেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় টানা তৃতীয় দিনের মতো এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
অন্যদিকে, ইরান সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। আট মাস ধরে চলা এ সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকাতেও উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর সামরিক প্রস্তুতি জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় ইরানের সেনাবাহিনী।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে মনে করেন রুবিও।
এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে যান। পরদিন শনিবার আলোচনা দোহায় স্থানান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়া সমন্বয় করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স

