নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বড় ধরনের শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হবে। এতে পায়ে হেঁটে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি শেষ হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। শোভাযাত্রা সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের সড়ক ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী র্যালির маршруপ সম্পর্কে বলেন, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছাবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান র্যালিতে উপস্থিত থাকবেন। এ উপলক্ষে তাঁদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। রাজধানীতে স্মরণীয় একটি শোভাযাত্রা আয়োজনের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানান, শোভাযাত্রা সফল করতে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে একাধিক প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সকালে পতাকা উত্তোলন ও জিয়ারত
দিবসের কর্মসূচির শুরুতে সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। পরে সেখানে ফাতেহা পাঠ করা হবে।
এ ছাড়া জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন পর্যায়ে র্যালি। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।
দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে দিবস পালন
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে এবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করছে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর দলটির কাছে এবারের দিবসটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে দলটি। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর রাজপথে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে বিএনপি।

