দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ থেকে নির্দেশনা আসছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির এসব অপচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণও এ ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গলির ভেতর থেকে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রতিবেশী দেশ থেকে নির্দেশনা আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, সরকার এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ওই সময়ে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। ভয়ে মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে পারত না, এমনকি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও আতঙ্কে থাকত।
রিজভীর মতে, দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকেরা রাজপথে নেমে আসেন। গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে ৭ নভেম্বরের চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন।
খাল খনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী জানান, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবের মধ্যে পড়বে না। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের সচেতনতা জরুরি।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

