জাতীয়তাবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও নাশকতার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসব অপতৎপরতা মোকাবিলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। কখনো রাজপথে মিছিল, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা, আবার কখনো নাশকতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে। কোনো অপশক্তিকে লক্ষ্যচ্যুত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সততা, দেশপ্রেম ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত নেতৃত্বের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করেই দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। তার নেতৃত্বে একসময় বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। শিল্পকারখানায় বিনিয়োগ বেড়েছিল এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর এবার যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ আরও গভীর সংকটে পড়তে পারত। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যাশা থেকেই সেদিন সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা শহীদ জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তার সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বেও বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছিল।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করে বর্তমান প্রজন্মকে দেশের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সততা, দেশপ্রেম, দায়িত্বশীলতা এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
এ ছাড়া জেলা ও মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

