প্যারাসুটে নেমে ঢোলের তালে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানো কি সম্ভব: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নিজ দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে দেশত্যাগ করা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে জনগণ আবার ক্ষমতায় দেখতে চাইবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্যারাসুট দিয়ে নেমে এসে ঢাকঢোল পিটিয়ে অভ্যর্থনা পাওয়ার মতো পরিস্থিতি কখনো তৈরি হবে না।

- Advertisement -

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলছেন। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শিশু-কিশোর, তরুণ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামসহ অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে রক্ত ঝরিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান, তারা আবার ফিরে এসে ক্ষমতায় বসবেন—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেবে না।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনার মিল রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল জুলাইয়ের আন্দোলনে। আধিপত্যবাদী শক্তি কিংবা তাদের দেশীয় সহযোগীরা চাইলেও বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

৭ নভেম্বরের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই দিনটি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনার স্মারক নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাও বহন করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। কার সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, কার সঙ্গে চুক্তি হবে, তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার।

দীর্ঘ ১৭ বছর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনে বাধার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্‌যাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে দিবসটি পালন করেছে। এতে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য হারিয়ে যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মনোভাব তৈরি করেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একটি দক্ষ ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পক্ষে ছিলেন। বর্তমান আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

সভাপতির বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল। বিগত সাড়ে ১৭ বছর দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে দিবসটি উদ্‌যাপন করেছে।

এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ