spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিমানমন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে দুই মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত গাড়ির বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। দুই মামলায় মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় মন্ত্রীর গাড়িটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে চলাচল করছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সচিবালয়ের সামনে গাড়িটি থামিয়ে মামলা দেওয়া হয়। ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ মামলাগুলো করেন।

সার্জেন্ট সিফাত বলেন, গাড়িটি নির্ধারিত লেন অমান্য করে চলাচলের সময় অন্য যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা গাড়িটি থামান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

তিনি বলেন, মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধেও যে ট্রাফিক আইনে মামলা হতে পারে, বিষয়টি তাঁর কাছেও বিরল মনে হয়েছে। ঘটনাটি ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা ছিল বলে জানান তিনি।

সার্জেন্ট সিফাত আরও জানান, গাড়িটির চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আইন লঙ্ঘনের সময় মন্ত্রী গাড়িতে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একটি মামলায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং অন্যটিতে অনিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই মামলায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সার্জেন্ট সিফাত বলেন, মামলা গাড়ির নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে করা হলেও আইন লঙ্ঘনের দায় চালকের। তাই জরিমানার অর্থ চালককেই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

যে দুই ধারায় মামলা

ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৮৭ ও ৯২ ধারায় গাড়িটির বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

আইনের ৮৭ ধারা ৪৪ ধারার বিধান লঙ্ঘনের শাস্তির কথা বলে। ৪৪ ধারায় মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক বা অননুমোদিতভাবে ওভারটেকিং এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে একটি দোষসূচক পয়েন্ট কাটারও বিধান রয়েছে।

মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি ৪৪(৩) ধারার বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্য মামলাটি করা হয়েছে ৯২ ধারায়। এ ধারায় মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশনা লঙ্ঘনের শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের ৪৯(১) ধারায় নির্ধারিত অভিমুখের বিপরীত দিকে গাড়ি চালানো এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া ভুল দিকে গাড়ি থামিয়ে যানজট বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ৯২(১) ধারায় সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। চালকের লাইসেন্স থেকে একটি দোষসূচক পয়েন্ট কাটারও সুযোগ রয়েছে।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ