চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক, নতুন নগর ব্যবস্থাপনার বার্তা মেয়রের

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম:
spot_img

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম: পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর গড়ার পথে চট্টগ্রাম নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

- Advertisement -

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা রয়েছে ট্র্যাকটির। এর এক দিন আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিমানবন্দর সড়কে নির্মিত সাইকেল ট্র্যাকের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন মেয়র। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মেয়র ট্র্যাকের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্বোধনের প্রস্তুতি, নির্মাণকাজের মান, সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ট্র্যাকটি যেন নিরাপদ, ব্যবহারবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন হয়, সে বিষয়েও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।’

তিনি বলেন, এটি কেবল সাইকেল চলাচলের জন্য একটি আলাদা পথ নয়। পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর নগরজীবন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চসিক মেয়র জানান, ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে নির্মাণ করা হয়েছে পথচারীদের জন্য ফুটপাত।

সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। এর এক পাশে সৌন্দর্যবর্ধনমূলক ল্যান্ডস্কেপিংয়ের পাশাপাশি ওয়াকওয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে সাইকেল ট্র্যাকটি।

মেয়র বলেন, পৃথক সাইকেল লেন চালু হলে সাইকেল আরোহীদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। নগরবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরিতেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তরুণদের সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ সাইকেল চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা গেলে তরুণদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে। এতে যানজট ও বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামকে আরও পরিবেশবান্ধব নগরে পরিণত করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামকে সাইকেলবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মেয়র।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দর সড়কের এই সাইকেল ট্র্যাক চট্টগ্রামের নগর পরিবহনব্যবস্থায় নতুন সংযোজন। বিশেষ করে তরুণদের সাইকেল ব্যবহারে আগ্রহী করা, শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

চসিক সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সাইকেল ট্র্যাকটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে চসিকের প্রধান নির্বাহী ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া এবং মেয়রের একান্ত সচিব (অ. দা.) আজিজ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ