যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ, একই পরিবারের ৮ জনকে হত্যার পর হামলাকারীর আত্মহত্যা

নিহতদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশু, হামলার কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে একই পরিবারের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশু। পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন হামলাকারীও। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ মোট প্রাণহানি হয়েছে নয়জনের।

- Advertisement -

শনিবার পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হামলাকারীর বয়স ৪৫ বছর। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনো তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

এরি পুলিশের প্রধান রিক লোরাহ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়িটির দ্বিতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আটজন একই পরিবারের সদস্য। হামলার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা দুই নারীও হামলাকারীর গুলির শিকার হন। প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই নারীরা প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

কী কারণে হামলাকারী পরিবারের সদস্যদের ওপর এভাবে গুলি চালিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা তুলে ধরে এরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন বলেন, সেখানে পৌঁছে পুলিশ সদস্যদের অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাহস ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনি এরির মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪০০টির বেশি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

একই পরিবারের আট সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এরি শহরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ