পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত নেতারা পুলিশের গৃহীত ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ এবং এসবি প্রধান মো. কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। ঢাকায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকার পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানি ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি

দুর্গাপূজাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তিকর ছবি, অপপ্রচার কিংবা গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আগেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার আহ্বান

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎসব নির্বিঘ্ন রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

প্রস্তুত থাকবে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট

দুর্গাপূজার সময় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।

এ ছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত সমন্বয়ের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু রাখার কথা জানানো হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে পূজাকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মণ্ডপে উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তা প্রস্তুতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

সর্বশেষ