কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন একটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৩ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প চত্বরে প্রবেশ করে।

- Advertisement -

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপন বা রিফুয়েলিংয়ের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার কথা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ চালানটি রূপপুরে পৌঁছেছে।

আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও আটটি ফ্লাইটে অবশিষ্ট জ্বালানি দেশে আসার কথা রয়েছে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে আসা পারমাণবিক জ্বালানিবাহী একটি বিশেষ বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা বিমানবন্দর থেকে জ্বালানি গ্রহণ করেন। বুধবার ভোরে তিনটি বিশেষ লরিতে করে জ্বালানিগুলো রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে লরিগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। পুরো যাত্রাপথে জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, এসএসএফ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে যানজট এড়াতে যাত্রাপথে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হয়।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপন এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানির একটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছিল।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ২০২৩ সালে দেশে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। এরপর গত ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়, যা কেন্দ্রটির কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন্দ্রটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকায় রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ