ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে মিসর কিংবা অন্য কোনো দেশ সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়লে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মনে করেন, এ ধরনের সংঘাতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ সংকট নিরসনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-ইরাকিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ইয়েমেনের সংঘাতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মিসরের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দেশটির অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাগচি বলেন, জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পরিণতি সম্পর্কে মিসরের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর মতে, বিদেশি কোনো শক্তির উপস্থিতি বা সামরিক হস্তক্ষেপ ইয়েমেন সংকটের সমাধানকে আরও কঠিন করে তুলবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, মিসর ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না কিংবা দেশটির বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না। তাঁর বক্তব্যে ইয়েমেন সংঘাতে নতুন কোনো দেশের সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
সৌদির প্রতিরক্ষায় মিসরের সহায়তা নিয়ে আলোচনা
ইয়েমেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিসরের সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনা চলছে। হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদির প্রতিরক্ষায় মিসরের সামরিক বাহিনীকে সহায়তার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে নির্ধারিত ভোটাভুটি পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর করার কথা জানানো হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে আরাগচির বক্তব্যকে ইয়েমেন সংঘাতে মিসরের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ইরানের সতর্ক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে মিসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা
ইয়েমেনের সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় মিসরসহ অন্য কোনো দেশ সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছে তেহরান।
আরাগচির বক্তব্যে মূলত বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ইরানের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর মতে, নতুন শক্তির অংশগ্রহণ সংকটের সমাধান সহজ করার পরিবর্তে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
এদিকে, সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে মিসরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দেশটির সিদ্ধান্তের ওপর ইয়েমেন সংঘাতের আঞ্চলিক পরিস্থিতি কতটা প্রভাবিত হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
সূত্র: ডন নিউজ

