যুবলীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা, বিএনপিতে অস্বস্তি; টিটুলের বিরুদ্ধে এমপি মমতাজের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো ও জেলা বিএনপির সভাপতি মইনুল হাসান সাদিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফুলছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।

- Advertisement -

মমতাজ আলোর অভিযোগ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিটুল যুবলীগ নেতার রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে তাঁকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি টিটুলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ও ১৯ অক্টোবর গাইবান্ধা সফরে যান সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। এ সময় তিনি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, শাড়ি বিতরণ এবং নদীভাঙনকবলিত এলাকায় চাল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরকালে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তাঁর সঙ্গে এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকনের সাক্ষাৎ হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য।

মমতাজ আলোর ভাষ্য, টিটুল ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট না করে তাঁকে একটি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে সংশ্লিষ্ট কলেজটি জাতীয়করণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় টিটুল নিজে উপস্থিত থেকে পুষ্পস্তবক প্রদান ও ছবি তোলেন। একজন দায়িত্বশীল দলীয় নেতার মাধ্যমে এমন ঘটনা রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর বলে মনে করেন তিনি।

এ ঘটনায় রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু ও জেলা বিএনপির সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মমতাজ আলো। আবেদনে অভিযোগের তদন্ত, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে যুবলীগের একজন নেতার সঙ্গে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফুলছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামানের কারণে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং কেউ কেউ কারাবরণও করেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এমন পরিস্থিতিতে ওই যুবলীগ নেতার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যা বললেন জেলা বিএনপির সভাপতি

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিকের কার্যালয়েও এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কালবেলাকে মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ওই ব্যক্তি কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পরিচয়ে তাঁর চেম্বারে কুশল বিনিময় করতে এসেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে চিনতেন না। কলেজের একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতেই তিনি এসেছিলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি আরও বলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কলেজের শিক্ষক, বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। কে যুবলীগ বা আওয়ামী লীগ করেন, তা সবার ক্ষেত্রে চেনা সম্ভব নয়।

ঘটনাটি ঘিরে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে যে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা এখন সাংগঠনিক পর্যায়ে কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। মমতাজ আলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ