কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় নতুন করে গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নির্গত গ্যাসের সঙ্গে তরল হাইড্রোকার্বন বা ‘কনডেনসেট’-এর উপস্থিতি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভূতাত্ত্বিক জরিপ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসের মধ্যে উচ্চমাত্রার হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতির প্রাথমিক আলামত পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত অগভীর ভূস্তরে তৈরি বায়োজেনিক গ্যাসের সঙ্গে পানি পাওয়া যায়। কিন্তু ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেটের উপস্থিতি গভীর ভূস্তরে থার্মোজেনিক গ্যাসের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিকুন আরহাম জানান, ভোলার শাহবাজপুরে পাওয়া অগভীর স্তরের বায়োজেনিক গ্যাসের সঙ্গে ইনানীর গ্যাসের বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য রয়েছে। ইনানীতে কনডেনসেটের আলামত পাওয়ায় সেখানে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আগে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট সেতুর পাশের একটি বাড়িতে নলকূপ খননের সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আবদুল্লাহর বাড়িতে প্রায় ৮০০ ফুট গভীর নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খোঁড়ার একপর্যায়ে ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর থেকে অব্যাহতভাবে গ্যাস বের হওয়া ও আগুন জ্বলতে থাকায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণ ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। দুর্ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে লাল পতাকা টাঙিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদেরও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক জেবুন নাহার জানান, ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল দল ঘটনাস্থল থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে। সেগুলো পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গ্যাসের উচ্চচাপের কারণে জোরপূর্বক আগুন নেভানোর চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই আপাতত দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে ইনানীর এই গ্যাস নির্গমনের ঘটনা দেশের জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে প্রকৃত অবস্থা জানতে নমুনার রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও পরবর্তী ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

