দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হলে সারা দেশে আন্দোলন ও মিছিল ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে সেই মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে সংবিধান সংশোধনের কাজে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যার সমাধানে ব্যর্থতার অভিযোগে জ্বালানিমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সাধারণ মানুষ গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ভুগছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও দলীয়করণ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, একতরফাভাবে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল এই পরিষদ গঠন। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার, ৩১ দফা ও জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের পরিবেশ তৈরি করছে। দেশ পরিচালনায় সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন ডিসেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের পতিত নেতৃত্বের দেশে ফেরার আলোচনা চলছে। তবে বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ অবস্থায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি ও তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত হত্যা, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে অস্থিরতা এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিবেশী দেশটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে করিডর ও গঙ্গা চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ করিডর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি নতুন করে করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় এ ইস্যুতেও দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে তিনি আবারও বলেন, দেশের চলমান নৈরাজ্য, খুন, গুম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে ঢাকা মহানগরের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের বিজয়ী করতে এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আগের নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইভাবে আসিফ মাহমুদকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

