যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে যুদ্ধবিরোধী জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তার মতে, মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হবে।
কালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা ‘যুদ্ধকে না’ বলার বার্তা দিয়েছেন। তবে তাদের এই অবস্থানের পেছনে বিবেকের তাড়না কাজ করেছে, নাকি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ প্রভাব ফেলেছে, তা নিশ্চিত নয়। কারণ যা-ই হোক, নির্বাচনের ফলাফলে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন হলেও তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে সতর্কতা অবলম্বন করছে ইরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা সামরিক অভিযান চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হয়।
এদিকে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা এখনো কাটেনি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

