৭ নভেম্বরের চেতনাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের চেতনাই ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্তর্নিহিত শক্তি। তাঁর মতে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ৭ নভেম্বরের ঘটনা জাতীয় জীবনে এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

- Advertisement -

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশবাসীকে দিবসটির শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিএনপির এই নেতা।

বাণীতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তাঁর ভাষায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্তর্নিহিত শক্তির সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনার ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে জাতীয় স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল গঠন এবং ভিন্নমতাবলম্বী সংবাদপত্র বন্ধের ফলে দেশে অস্থিরতা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর চক্রান্তকারীরা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে। সংকটময় সেই সময়ে ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক সংহতির মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।

রিজভীর দাবি, ৭ নভেম্বরের পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় হয়। গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জনগণ নাগরিক স্বাধীনতা ফিরে পায়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় এবং দেশের অর্থনীতি, উৎপাদন ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়।

জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১৯৮১ সালে বিদেশি শক্তির এদেশীয় অনুচররা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা মনে করে তাঁকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করলেও তাঁর আদর্শে বিশ্বাসীরা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনো অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছেন।

গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণীতে রিজভী অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতনের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

বাণীর শেষাংশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক শিক্ষা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামে প্রেরণা জোগায়। মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আবারও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সর্বশেষ