ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হলে ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ত।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। দেশটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও একই ধরনের দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত না রাখলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ত।
এদিকে কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা চললেও ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে আরও সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টাও চলছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো কয়েকটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। এসব উদ্যোগের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে না।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, যেকোনো আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সব মিলিয়ে একদিকে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ—দুইয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখনো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা,

